পরিবেশবিদ্যা কী
পরিবেশবিদ্যা বা এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ (Environmental Studies) বলতে বিজ্ঞানের সেই শাখাটিকে বােঝায় যে শাখায় ভৌত বা প্রাকৃতিক পরিবেশ (Physical Environment), জীবজ পরিবেশ (Biotic Environment) এবং সামাজিক পরিবেশের (Social Environment) বৈশিষ্ট্য, পারস্পরিক সম্পর্ক ও প্রভাবের ভিত্তিতে সমগ্র পরিবেশের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য, সমস্যা ও তার সমাধানের বিষয়ে পঠনপাঠন করা হয়।
পরিবেশবিদ্যা কী বহুমাত্রিক বিষয়
পরিবেশবিদ্যা তার প্রকৃতি ও বিষয়বস্তু অনুসারে বহুমাত্রিক বা মালটিডাইমেনশনাল (multidimensional) বিষয়। কারণ পরিবেশবিদ্যার চর্চা আইন, বিজ্ঞান ও মানবীয় বিষয়গুলি (Humanities) থেকে আহরিত তথ্য, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল যেমন-
আইন
আইনশাস্ত্র পরিবেশ বিষয়ক আইনগুলি তৈরি করতে ও প্রয়ােগ করতে সাহায্য করে।
দর্শন
দর্শন শাস্ত্র মানুষকে জীবন ও পৃথিবীর মূল সত্যগুলি অনুসন্ধান করতে শেখায়। পরিবেশের নীতিগুলি এমনই অলঙ্ঘনীয় সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত যার ব্যাখ্যা দর্শনশাস্ত্র থেকে পাওয়া যায়।
অর্থনীতি
অর্থনীতি মানুষকে শেখায় কীভাবে সে পরিবেশ থেকে পাওয়া প্রয়ােজনীয় সম্পদগুলিকে উৎপাদনের প্রয়ােজনে ব্যবহার করে এবং উৎপাদিত দ্রব্যগুলি কীভাবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বণ্টিত হয়। সুতরাং অর্থনীতি পরিবেশে সম্পদভিত্তিক কাজকর্মের বিচার বিশ্লেষণ করে। এছাড়া বিশ্ব উষ্ণায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে আলােকপাত করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
নাগরিক হিসাবে মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং পরিবেশ সম্পর্কে দেশ ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানুষের দায়িত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম।
গণিত ও সংখ্যাতত্ত্ব
পরিবেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ক্ষেত্রগুলি থেকে যে তথ্য পাওয়া যায়, তার বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যতে হ্রাস বৃদ্ধির হার সম্পর্কে নির্ভরযােগ্য পর্যালােচনার জন্য গণিত ও সংখ্যাতত্ত্বের প্রয়ােগ একান্ত প্রয়ােজন।
রসায়ন
পরিবেশের বিভিন্ন অংশে যেমন জল, মাটি, বায়ুতে বিভিন্ন রাসায়নিক ও দৃষকগুলি কী পরিমাণে রয়েছে, ওই রাসায়নিক ও দূষকগুলি মানুষ, উদ্ভিদ ও প্রাণীদের কীভাবে প্রভাবিত করে ইত্যাদি বিষয়গুলি রসায়নবিদ্যার হাত ধরে আমরা জানতে পারি।
পদার্থবিদ্যা
পরিবেশকে জানা, বােঝা ও পরিমাপ করার জন্য যত ধরনের যন্ত্রপাতি আমরা ব্যবহার করি তার ভিত্তিই হল পদার্থবিদ্যা। শুধু তাই না, জলবায়ু পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন’ অালানি ব্যবহার করতে হলে, পরিবেশের উরানোর জন্য পরিকাঠামাে গড়ে তুলতে হলে পদার্থবিদ্যার নীতি ও সুত্রগুলি প্রয়োগ করতে হয়।
জীববিজ্ঞান ও ইকোলজি
জীববিজ্ঞানের উন্নতির মাধ্যমে মানুষ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘ঠান আহরণ করতে সমর্থ হয়েছে। ফলে পরিবেশ ও জীবের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে ‘ইকোলঞ্জি নামক বিজ্ঞানটিরও জন্ম হয়েছে। উদাহরণ হিসাবে ধরা যাক একটি উপকূলবর্তী অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করলে ওই অঞ্চলের উদ্ভিদ, প্রাণী, জল, মাটির ওপর তার কী পড়বে সে বিষয়ে জানতে হলে জীববিজ্ঞান ও ইকোলজির প্রয়োগ দরকার হবে।
ভূতত্ত্ব ও ভূগােল
পরিবেশবিদ্যার সামগ্রিক ক্ষেত্রে ভুতত্ত্ব ও ভূগােল শাস্ত্রের অবদান আছে। জলাভূমি, ওয়েটল্যান্ড (wasteland), মরুভুমি ও মরুভূমিকাণ, দুর্যোগ ও বিপা ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়ার জন্য ভূতত্ত্ব ও ভূগােলবিদ্যার ব্যবহার জরুরি। এছাড়া ইদানীং কালে উপগ্রহ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের যে ছবি প্রতিনিয়ত নেওয়া হচ্ছে, তা পাঠ করতে হলেও ভূবিজ্ঞানের জ্ঞান আবশ্যক। তবেই পরিবেশবিদ্যার বহুমাত্রিক চর্চা পরিবেশের সুস্থায়ী উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
Leave a reply
You must login or register to add a new comment .